:

জিয়া স্মৃতি যাদুঘরে অর্থ মন্ত্রী খসরু: সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা

top-news

স্বাধীনতার ঘোষক সহ যারা সম্মুখ যুদ্বে অংশ নিয়েছিলো তাদের অনেককে এতোদিন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। অযত্ন ও অবহেলায় রাখা চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি যাদুঘরকে দ্রুত হ্যারিটেজ ঘোষনা দিয়ে সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ।এসময় বিভাগীয় কমিশনার ড.জিযা উদ্দিন,জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন. জিয়া স্মৃতি যাদুঘর জাতীর গুরুত্বপূর্ণ  হ্যারিটেজ  প্রপার্টি। এটিকে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা জরুরি। দ্রুত জাদুঘরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে উম্মুক্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারে।
 মন্ত্রী বলেন,এ জাদুঘরে প্রায়ত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি এবং দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথেও অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলার কারণে স্বাধীনতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল সদস্যের হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন। এই স্থাপনাটিকে পরে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, এই স্থাপনার অবস্থা ভালো না। এটি একটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পুরোনো দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটির অবকাঠামোগত অনেকগুলো সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোনো ভূমিকম্প হলে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এটার একটা দ্রুত প্রতিকার আমাদের করতে হবে। এই এ রকম একটা হেরিটেজ প্রোপার্টি (ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা), বিশেষ করে যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যিনি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, দেশকে স্বাধীন করার অন্যতম সাহসী সন্তান, তাঁর স্মৃতি রয়েছে। এই জায়গাতে আমাদের জন্য যথেষ্ট জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে।’

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের অবকাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে নজর দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অবকাঠামোর সংস্কার না করে রেনোভেশনের (নতুন রূপ) কোনো সুযোগ এখন নেই। এমনিতেই অবকাঠামোর যেসব সমস্যা আছে, তা সংস্কারে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন দ্রুত কাজে হাত দেওয়া হবে। এরপর পরবর্তী কাজগুলো ক্রমান্বয়ে করা হবে।

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জাদুঘরের যে বিষয়গুলো আছে, সেটিকে আবার সঠিকভাবে পুনঃস্থাপন করতে হবে। যার মাধ্যমে দর্শনার্থী অনেক কিছু জানতে পারবেন। বর্তমান অবস্থার কারণে তা বন্ধ রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অর্পিতা দাশ গুপ্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *